দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সরকারের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তা পুলিশের অপরাধচিত্র থেকে নেওয়া এবং জেলা পর্যায় থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই সংগৃহীত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই এটি স্পষ্ট যে, আগের চেয়ে বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।
এর আগে গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দাবি করেছিল যে, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সারা দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই রিপোর্টের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবি মূলত পত্রিকার কাটিং থেকে তাদের রিপোর্ট তৈরি করে, তারা নিজেরা কোনো তদন্ত করে না। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। এই সময়ে পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুলিশকে একটি জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সক্ষম হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বপূর্ণ আচরণের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে পুরস্কৃত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা উন্মোচন, গোয়ালন্দ ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সিগঞ্জে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যেকের হাতে ২০ হাজার টাকা এবং সনদ তুলে দেন। একই সময়ে তিনি নৌ পুলিশের ৩ জন সদস্যকে আইজি ব্যাজ পরিয়ে দেন।
পুরস্কার বিতরণী শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে এবং তাদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করতেই এই পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনী অনুপ্রাণিত হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও দাবি করেন, পুলিশ সদস্যদের এই ধরনের সাহসিকতার জন্য অতীতে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দেওয়া হয়নি, যা এখন থেকে শুরু হলো। আগামীতেও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য সারা দেশে এমন পুরস্কারের ধারা অব্যাহত রাখা হবে।



