চলতি জুন মাসের ৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী মে মাসের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া।
সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া। ৭১ বিধিতে দেওয়া এক নোটিশের মাধ্যমে তিনি এই ঘটনাকে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ‘চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর পেছনে থাকা দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার কারণে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের মধ্যেও দেশের লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।
অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম এ দেশের শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ প্রদান করে জাতীয়করণের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ দেশের শিক্ষকদের জন্য উৎসব ভাতা এবং ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে যদি মাসের ১৫ তারিখেও ঈদ হতো, তবে তার আগেই সেই মাসের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দেওয়া হতো। বর্তমানে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার এত উন্নতির পরও কেন প্রতি মাসের বেতন সময়মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তোলেন।
সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট সচল রাখার জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকার যখন শিক্ষকদের জন্য এত বড় তহবিল বরাদ্দ দিচ্ছে, তখন মাঠপর্যায়ে বা প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে ৬ লাখ শিক্ষকের বেতন আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিশেষে সংসদ সদস্য অবিলম্বে এই আমলাতান্ত্রিক বা চক্রান্তমূলক জটিলতা নিরসন করে শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



