বগুড়া জেলা পরিষদের তিনবারের সাবেক প্রশাসক, চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মকবুল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বগুড়া শহরের নারুলী মধ্যপাড়ায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে মানুষের কাছে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বগুড়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার বাদ এশা বগুড়া শহরের নারুলী মধ্যপাড়া রেললাইন সংলগ্ন বুদা প্রামাণিক কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ডা. মকবুল হোসেন বগুড়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য তিনি ভাষাসৈনিক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে তিনি সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হতেন।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
প্রথম মেয়াদ শেষে ২০২২ সালে তিনি পুনরায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা পরিষদে প্রশাসক ও চেয়ারম্যান হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি বগুড়ার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
ডা. মকবুল হোসেনের মৃত্যুতে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মজীবনের অবসান ঘটল। তার অবদান বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



