কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার পৌরসদর বাজারের ডাক বাংলো সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বহুদিনের পুরোনো উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ওই কার্যালয়টির এক পাশের টিনশেড ঘরে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং অন্যপাশের আরেকটি টিনশেড ঘরে বীর মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা দুটি ঘরেই একযোগে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠন করার পাশাপাশি হামলাকারীরা ভেতরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যেগুলো সাথে করে নিতে পারেনি, সেগুলোকেও ভেঙে চুরমার ও নষ্ট করে রেখে গেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদি) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, তারা ঘটনাস্থল সশরীরে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি দেখেছেন এবং পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, লিখিত অভিযোগ এখনো না পেলেও খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



