আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারের সাশ্রয় নীতি অনুযায়ী বিদ্যুৎ অপচয় রোধে পটুয়াখালীতে উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।পটুয়াখালীতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বসানো আলোক নির্গমন ডায়োড বা এলইডি মনিটরের বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগের এই আয়োজনটি বন্ধ করতে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারেক হাওলাদার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, জনসমাগমস্থলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে নিজ নিজ দলের সমর্থন নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়টিও নোটিশে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশনার পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর ঝাউতলা এলাকার হৃদয় তরুয়া চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ফুটবল খেলা উপভোগের জন্য বসানো সব মনিটর সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দর্শকদের বসার সুবিধার্থে নির্মিত প্যান্ডেলও অপসারণ করে নিচ্ছেন আয়োজকরা।
জেলা প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসিন্দা রাকিব এ প্রসঙ্গে বলেন, এত বড় বিশ্বকাপ আয়োজন একসাথে দেখতে পেয়ে তারা খুব আনন্দিত ছিলেন এবং সবাই মিলে বড় পর্দায় খেলা দেখাটা ছিল দারুণ ভালো লাগার একটি বিষয়; কিন্তু জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ তাদের মনে কষ্ট দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে দেখবে। শহরের আরেক বাসিন্দা সাব্বির বলেন, তাদের শহরটি খুবই শান্তশিষ্ট এবং সবার মাঝে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই ফুটবল খেলা দেখার মতো এমন আয়োজনে কখনোই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে না বলে তারা মনে করেন। একসঙ্গে ফুটবল উপভোগের অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় তারা আবারও বড় মনিটরে খেলা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান।
খেলা প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান আয়োজক আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান বলেন, তারা মূলত তরুণ সমাজকে একটি সুস্থ বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যেই বড় পর্দায় খেলা দেখার এই আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে প্রশাসন আয়োজনটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তা তারা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন না। তাদের এই আয়োজনে খেলা উপভোগের জন্য বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসতেন, যা মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি করত এবং এতে সবাই খুশি ছিলেন। তাই সাধারণ মানুষের আবেগ ও গভীর আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খেলা দেখার আয়োজনটি পুনরায় চালু রাখার জন্য প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎসহ অন্য বিষয়ে সরকারের সাশ্রয় নীতি প্রতিপালনের লক্ষ্যে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচসমূহ বৃহৎ পর্দার মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শনের অনুমতি প্রদান কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।



