দেশে নারীদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেড় হাজার শয্যার দুইটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ইউনিটসহ দেশের মোট ১০টি সরকারি হাসপাতালে নতুন আইসিইউ ইউনিটের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে মোট ২০টি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ করে নারীদের চিকিৎসার জন্য দেড় হাজার শয্যার দুইটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে এবং বাকি ১৮টি হাসপাতাল হবে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা, মাতৃসেবা, পুনর্বাসন এবং সাধারণ চিকিৎসাসহ সব ধরনের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুব্যবস্থা থাকবে।
দেশের চিকিৎসাসেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই নতুন প্রতিটি হাসপাতালে পাঁচটি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হবে। এর পাশাপাশি জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগী দ্রুত পরিবহনের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যখাতে প্রথমবারের মতো চারটি হেলিকপ্টারও যুক্ত করা হবে। দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সরকার খুব শীঘ্রই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই বিশাল নিয়োগের মধ্যে ৮০ হাজার কর্মীই থাকবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তারা তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিভিন্ন রোগের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।
এর আগে ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পূর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সশরীরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের রান্নাঘরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও চরম অপরিচ্ছন্নতা দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের এই জরাজীর্ণ দশা দেখে তিনি জেলা সিভিল সার্জনকে আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার কড়া নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের এই পরিবেশের উন্নতির বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।



