বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংকটিকে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও স্বস্তি প্রকাশ করেছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ বা এবিবি।সোমবার, পনেরো জুন এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে একে ব্যাংক খাতের জন্য সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর আগে রবিবার, চৌদ্দ জুন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, এক হাজার নয়শত একানব্বই-এর ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানি, আমানতকারী ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে পাঠানো ওই বিবৃতিতে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন জানান, ইসলামী ব্যাংকের ইস্যুটি রাজনৈতিক মাত্রা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য এই ব্যাংকের সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা গত দশ জুন গভর্নরের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তারা দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়েছিলেন কারণ ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতে পড়ছিল। প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, বিপুল আমানত ও বিনিয়োগ, দেশের বৃহত্তম প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে বিশাল ভূমিকার কারণে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক ‘মব’-নির্ভর বা দলবদ্ধ উগ্র আন্দোলন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি এই ব্যাংকটির পরিচালনা, তারল্য এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। এবিবি বিশ্বাস করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রশংসনীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং আমানতকারী ও অংশীদারদের আস্থা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকটিতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় অগ্রগতি প্রত্যাশা করার পাশাপাশি ব্যাংক খাতে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে অশনি সংকেত হিসেবে উল্লেখ করে সরকারকে একে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।



