জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় আবাসিক হল ছেড়ে দিলেও হল ছাড়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দাবি করেছেন সহ–সভাপতি (ভিপি)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা দুজনেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম, উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট, রেজিস্ট্রার এবং জাকসু, হল সংসদ ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
হল ছাড়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম ও বিধির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক সাত দিনের মধ্যেই আবাসিক হল ছেড়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তার সাবেক বরাদ্দকৃত কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে আসন বণ্টনও সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তার দেরির কারণ দর্শিয়ে বলেন, তিনি বেশ কিছু দিন দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। যার কারণে তার মালামাল গোছানো ও স্থানান্তরের কিছুটা প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। ক্যাম্পাসের বাইরে একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি হল ছেড়ে দেবেন বলে জানান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, জাকসু জিএস যথাসময়ে হল ছেড়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে এক অনন্য ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছাত্রদল আশা করে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভিপিও হল ছেড়ে দিয়ে একই নজির স্থাপন করবেন। অন্যদিকে জাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রত্ব যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই নৈতিক ও আইনি কোনোভাবেই তার হলে অবস্থানের সুযোগ নেই এবং অতি দ্রুতই তার হল ছেড়ে দেওয়া উচিত।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে এবং এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে হলে থাকার কোনো সুযোগ নেই। জাকসু ভিপির বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষাগত তথ্যের বিবরণে জানা যায়, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের এবং জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা দুজনেই জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত শিক্ষাবর্ষ থেকে এক বছর বিরতি নিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর জিএস মাজহারুল তার পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তবে ভিপি জিতু তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ৫০৪ নম্বর কোর্সটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ‘ড্রপআউট‘ বা ছাত্রত্ব বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।



