কোনো সাংবাদিককে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির পক্ষ হয়ে কাজ না করে, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার, পনেরো জুন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, কোনো সাংবাদিককে বিএনপি বা দলের পক্ষ হয়ে কোনো ধরনের কাজ করার প্রয়োজন নেই; বরং দেশের স্বার্থে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এবং সামগ্রিক গণমানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়গুলোকে সংবাদে প্রধানভাবে ফোকাস বা আলোকপাত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে আরও বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশটাকে রাতারাতি লন্ডন বা সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলার অবাস্তব স্বপ্ন দেখাতে চায় না। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী সরকারের দীর্ঘ শাসন আমলে দেশজুড়ে যে চরম অন্যায় ও নজিরবিহীন অবিচার সংঘটিত হয়েছে, সেই পুঞ্জীভূত সব আবর্জনা ও বিশৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে কিছুটা ভালোর পথে এবং টেকসই অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিতে চায় প্রশাসন।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে দেশের এই বর্তমান ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নানামুখী চ্যালেঞ্জের কথা অকপটে স্বীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সংস্কারের এই ঐতিহাসিক যাত্রাকে মসৃণ, গতিশীল ও সফল করে তুলতে উপস্থিত সকল স্তরের সাংবাদিকদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যম যদি নিরপেক্ষভাবে সমাজের প্রকৃত চিত্র ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে, তবে সরকারের পক্ষে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দ্রুত জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ দূর করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের এই স্বাধীন ও নির্ভীক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি বলে আলোচনা সভায় বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।



