আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অপমানিত বোধ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ভুক্তভোগী।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যশোরের কেশবপুরে এক নিষ্ঠাবান আর্জেন্টিনা সমর্থককে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অপমানিত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই সমর্থক। তিনি জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
গত সোমবার রাতে কেশবপুর থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের মূল গ্রামের বাসিন্দা অহিদুর রহমান ওরফে অন্তু। ভুক্তভোগী অহিদুর রহমান কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম–আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সংবাদে তার সুনির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ করা হয়নি।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা গেছে, অহিদুর রহমান ফুটবলে আর্জেন্টিনার একজন অন্ধ ভক্ত ও সমর্থক। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার ছবির ওপর নিখুঁতভাবে ব্রাজিলের জার্সি বসিয়ে দেয়া হয়, যেন মনে হয় তিনি ব্রাজিলের সমর্থক। পরবর্তীতে ‘রাসেল বাবু’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই বিকৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
এই কাজটিকে চরম মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে অহিদুর রহমান বলেন, “আমি আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত। অথচ আমাকে ব্রাজিলের সমর্থক বানিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে আমি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে চরম অপমানিত ও হেয়প্রতিপন্ন বোধ করছি। এই নোংরামি আমার ব্যক্তিগত জীবনেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সম্পর্কের দোহাই দিয়ে এমন সাইবার অপরাধ মেনে নেয়া যায় না, তাই আমি আইসিটি আইনে বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।“
এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেল বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টিকে একটি নিছক রসিকতা বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী অহিদুর রহমান সম্পর্কে তার মামা হন। রাসেল নিজে ব্রাজিলের একজন কট্টর সমর্থক হওয়ায় মামার সঙ্গে মজা করতেই এমনটা করেছেন। তার ভাষ্যমতে, “বিষয়টি এত জটিল বা গুরুতরভাবে নেয়ার কিছু নেই।“
তবে অভিযুক্তের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন ছাত্রদল নেতা অহিদুর রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখানে পারিবারিক সম্পর্কের কোনও বিষয় নেই এবং একজন মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করার এই নোংরা মানসিকতাকে তিনি কোনোভাবেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি এবং এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিবাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“



