চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মুক্তিপণ না পেয়ে মো. জায়হান নামে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর প্রতিবেশীর ঘরের পেছন থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, এবং এই ঘটনায় এক কিশোরীসহ পাঁচ প্রতিবেশীকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা এলাকায় একটি অত্যন্ত নির্মম ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র এক দিন পর মো. জায়হান নামের পাঁচ বছর বয়সি এক অবুজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৭ই জুন, ২০২৬ বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় ওই শিশুর এক প্রতিবেশীর ঘরের পেছনের অংশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত পাঁচ বছর বয়সি শিশু জায়হান ওই এলাকার স্থানীয় গ্যারেজ মালিক মো. শাহজাহানের ছেলে। এর আগে গত ১৬ই জুন মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সে আচমকা নিখোঁজ ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু জায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপরাধীরা। শিশুটির পরিবার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তদন্তে নামে পটিয়া থানা পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুনির্দিষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জায়হানের পাঁচ প্রতিবেশীকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান এবং ওয়াসিফা।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন কিশোরী রয়েছে, যার দেওয়া অত্যন্ত গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই দিবাগত গভীর রাতে পুলিশ প্রতিবেশীর ঘরের পেছনে অভিযান চালিয়ে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া শিশু জায়হানের সুরতহাল করতে গিয়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে মাথায় আঘাত করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ওসি জিয়াউল হক আরও স্পষ্ট করেন যে, অপরাধীদের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে পাঠানো সেই মুক্তিপণের চিঠিটি ইতোমধ্যে পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনার পেছনের মূল রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন করা এবং এই চক্রের সাথে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অধিকতর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদারভাবে চলমান রয়েছে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা শেষে নিহত শিশু জায়হানের মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



