রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসনে আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া নামের ৪টি প্রধান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে।১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অবস্থিত গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি ঢাকার যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকারের এই দূরগামী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর অভ্যন্তরে থাকা গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে পুরোপুরি নির্দিষ্ট নতুন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
টার্মিনালগুলোর নতুন অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকার বিদ্যমান সায়েদাবাদ টার্মিনালটি কাঁচপুরে, ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে, গাবতলী টার্মিনালটি হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনালটি উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি একটি সুবিধাজনক জায়গায় স্থানান্তরিত করা হবে।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেসরকারি বাসের কাউন্টারগুলোর কারণে সৃষ্ট যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টার বা অনেকগুলো বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না, আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
একই সংলাপে পদ্মা সেতুর পিলারের কাছ থেকে মাটি অপসারণ করার ফলে তৈরি হওয়া এক ধরনের জননিরাপত্তা উদ্বেগ ও গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে মাটি অপসারণের বিষয়ে তিনি নিজেও খোঁজ নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং সেতু প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই। বরং ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পানি চলাচলের সুবিধার জন্য তা অপসারণ করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) এই সংলাপটি সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পুরো সংলাপ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও তার বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।



