কক্সবাজারের টেকনাফে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস ব্রিজের রেলিং ভেঙে পাশের খালে উল্টে পড়লে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দমদমিয়া বিওপি এলাকার কেয়ারী ঘাটের পাশে নৌ পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন ব্রিজে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী পালকী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (নম্বর: কক্সবাজার–জ–১১–০২৩২) দমদমিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে সরাসরি পাশের খালে ছিটকে উল্টে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধীনস্থ দমদমিয়া বিওপির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে বাসের জানালা ও গেট ভেঙে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিজিবি সদস্যরা জানান, এই দুর্ঘটনায় দুই নারী ও এক শিশুসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবি সদস্যরা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিজিবি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, “বিজিবি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও মানবিক সংকটে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।” দ্রুত ও তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধার কাজ পরিচালনার কারণে বাসের অন্য যাত্রীরা বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।



