ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মারামারি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের স্থানীয় নেতা মো. সোহেল মিয়া ওরফে ‘টাইগার সোহেল’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর এলাকা থেকে মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেলকে গ্রেফতার করে নবীনগর থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া সোহেল মিয়া জিনোদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন এবং তার বয়স বা নির্দিষ্ট জন্মতারিখ উল্লেখ না থাকলেও তিনি এলাকায় যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টাইগার সোহেল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মারামারি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা এবং নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি একসময় এলাকায় নিজেকে ‘টাইগার সোহেল’ নামে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং স্থানীয়ভাবে মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় হাসান মিয়ার বাড়িতে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যে ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি তথ্য দিয়েছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এবাদুল করিম বুলবুলের প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে এলাকায় সোহেলের নানাভাবে উত্থান ঘটেছিল। তৎকালীন এই সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সোহেল জিনোদপুর বাজার কমিটির সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এর পর থেকে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় আগে থেকেই একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “টাইগার সোহেল নামে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আদালতে চালান করা হবে।”



