কড়াইল বস্তিসহ রাজধানীর ৫৮টি এলাকায় এবং দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রায় এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের মহাপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। আজ রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ (সংসদীয় প্রশ্নোত্তর সূচিতে ২৭ জুন উল্লেখ থাকলেও কার্যসূচি অনুযায়ী আজ) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয় এবং দিনের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বে আবাসন সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
জাকারিয়া তাহের সংসদকে অবহিত করে বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫–এ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি স্থান সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সর্বমোট এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।’ এছাড়া গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ৯৮ একর জমিতে পর্যায়ক্রমে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের আরেকটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আবাসন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আর্থিক সহায়তায় রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার মোট ৩৭টি বস্তিতে বসবাসকারী স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে পদ্মা আবাসিক এলাকার ৫৭৮ নম্বর প্লটে ১৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা শহরের হরিণটানা মৌজায় প্রায় আট একর জমিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) আওতাধীন সল্টগোলা এলাকায় চউকের মালিকানাধীন প্রায় ৮৩ কাঠা জমিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মাসিক ভাড়াভিত্তিক আবাসিক সুবিধা গড়ে তুলতে স্ব-অর্থায়ন বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।



