টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকায় পানি জমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং উজান থেকে ঢল নামার আশঙ্কায় জেলার মানুষের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা সদর, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। অনেক বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুর এবং কৃষিজমিতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
জেলা সদরের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। বৃষ্টি থামলেও কিছু সময় পর আবার শুরু হচ্ছে। এতে সড়কে পানি জমে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
সেনবাগ উপজেলার কৃষক আবদুল কাদের জানান, আমনের বীজতলা ও সবজিক্ষেতে পানি জমে গেছে। আরও কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে যাত্রী কমে গেছে। সারাদিন রিকশা চালিয়েও পর্যাপ্ত আয় হচ্ছে না, ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চাটখিল উপজেলার শিক্ষার্থী আরিয়ান জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে স্কুলে যেতে পারছে না। এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করে সে।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রিফাত জামিল বলেন, বর্তমানে জেলায় বন্যার তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই। তবে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে।
তিনি জানান, জেলার নদ-নদীর পানির স্তর বর্তমানে বিপৎসীমার ১ দশমিক ২৫ মিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও খাল, কালভার্ট বা পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



