ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচে রেফারিংয়ে চরম পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরেসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক তরুণ।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজের ছেলে ২২ বছর বয়সী তরুণ মো. রাকিব সুধারাম মডেল থানায় এই ব্যতিক্রমী অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। লিখিত অভিযোগে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক হিসেবে দাবি করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগে মূল অভিযুক্ত হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত প্রতারক এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতিতে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত বিবরণী থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে (৭ জুলাই) মো. রাকিব এবং তাঁর এলাকার অন্যান্য ক্রীড়ামোদী শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বসে বড় পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর মিসর বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। খেলা চলাকালীন ম্যাচের শুরু থেকেই বিবাদী রেফারি এবং ফিফা সভাপতি সুপরিকল্পিতভাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী প্রতারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশ্রয় নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। রাকিবের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র ১৪তম মিনিটে মিসর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিসর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিসরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিসরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে চরম হয়রানি করেন। এতে মিসর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়। বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিসর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় মানসিক ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “এক যুবক এমন একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন, বিষয়টি সত্য। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। অভিযোগকারীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মো. রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি দেখার পর থেকে আমি এবং আমার অভিযোগের সাক্ষীরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছি। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয়নি, তাই আমি একই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাব এবং প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব।”



