টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ভয়াবহভাবে ধসে গেছে। এর ফলে খাগড়াছড়ি হাসপাতাল থেকে বাবার লাশ নিয়ে বাঘাইছড়ির নিজ বাড়িতে ফেরার পথে এক দুর্ভাগা ছেলেসহ পুরো পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন এবং লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থাকে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সকালের দিকে মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের বিশাল অংশজুড়ে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ির সাথে খাগড়াছড়িসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ওই রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহন ও স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন বাঘাইছড়ির বাসিন্দা বিমল চাকমা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাবা খাগড়াছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাবার লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কে এসে তাঁরা পুরোপুরি আটকে যান। সড়কের সিংহভাগ অংশ ধসে যাওয়ায় গাড়ি যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় বাবার লাশ কাঁধে ধরাধরি করে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাঁদের বাড়ি পৌঁছাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত চার দিনের অবিরাম বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায় এবং পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে এই বিশাল ধসের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে ইচ্ছুক সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। মো. হুমায়ুন কবির নামের এক স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত বছরও ঠিক একই জায়গায় রাস্তাটি ভেঙে গিয়েছিল। তখন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ অত্যন্ত দায়সারাভাবে কাজ করার কারণে এবার একটু ভারী বৃষ্টি হতেই পুরো রাস্তা আবার ধসে গেল।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কটির কোনো অংশ সংস্কার না করায় যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় আমাদের টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে সড়ক ধসে পড়ার খবরটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সাথে জানানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সেখানে একটি স্থায়ী প্রোটেকশন ওয়াল (প্রতিরক্ষা দেওয়াল) নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ধস আর না হয়। চলমান বৃষ্টি থামার সাথে সাথেই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে বলে সওজ-এর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।



