ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আট বছর বয়সি এক শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত দিনমজুর যুবক সুমন আহমেদকে (২৫) আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর সুমন আহমেদ বাড়ির পাশে খেলতে থাকা আট বছর বয়সি এক শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখায়। এরপর কৌশলে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে, যার ফলে ভয়ে শিশুটি টানা ৪ দিন মুখ খোলেনি। ঘটনার পর থেকেই শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ওই রাতেই তার তীব্র জ্বর আসে। তার মা অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে বারবার জিজ্ঞাসা করলেও ভয়ে শিশুটি সম্পূর্ণ চুপ থাকে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে প্রতিবেশী শিশুরা তাকে খেলার জন্য ডাকতে এলে সে নিজের অসুস্থতার কথা জানায় এবং একপর্যায়ে খেলার এক সহপাঠীর কাছে ধর্ষণের পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। ওই সহপাঠী শিশুটি নিজের পরিবারকে বিষয়টি জানালে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয় এবং ভুক্তভোগী শিশুর মা সব জানতে পারেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষক সুমনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। বৃহস্পতিবার রাতেই ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে সুমনকে একমাত্র আসামি করে মুক্তাগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
নিজের সন্তানের এমন নির্মম পরিস্থিতির বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। সে ভয়ে আমাদের কিছু জানায়নি, ৪ দিন ধরে কিছু খেতেও পারছে না। আমি সুমনের বিচার দাবি করছি।’
গ্রেপ্তার সুমনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে জবানবন্দির জন্য শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছিল। শনিবার ডাক্তারি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামি সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।’ এরপর শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের নির্দেশে আসামি সুমনকে কারাগারে পাঠানো হয়।



