দেশের পাঁচটি জেলার তিনটি প্রধান নদীর পানি পাঁচটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুরমা ও তিস্তাসহ বেশ কয়েকটি নদী সতর্কসীমায় পৌঁছানোয় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
২০২৬ সালের ১২ জুলাই, রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) দেশের সার্বিক মৌসুমী পানি সমতল ও বৃষ্টিপাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রকাশ করেছে। সরকারি এই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৫টি জেলার ৩টি প্রধান নদীর পানি বর্তমানে ৫টি স্টেশনে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া একই নদীর দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন মোট ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৬৬টি স্টেশনে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬০টি স্টেশনে পানি হ্রাস পেয়েছে এবং ১টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের নদীগুলোর এই ব্যাপক পানি বৃদ্ধির পেছনে অভ্যন্তরীণ ও উজানের ভারী বৃষ্টিপাতকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে, যার পরিমাণ ১৮৭.০ মিলিমিটার। একই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরা স্টেশনে সর্বোচ্চ ১৬৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি নেমে আসায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বর্তমানে বিপদসীমার কাছাকাছি অর্থাৎ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট (সিলেট) স্টেশন, ছাতক (সুনামগঞ্জ) স্টেশন এবং সুনামগঞ্জ সদর স্টেশন। উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা ডালিয়া (নীলফামারী) ও কাউনিয়া (রংপুর) পয়েন্টে সতর্কসীমায় রয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মুহুরী নদী ফেনীর হরিপুর স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



