টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামের মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, ১৫টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘী ও জলাশয় প্লাবিত হয়ে অন্তত ৯১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের জরিপে জানানো হয়, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশসহ ১৫টি উপজেলায় টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের বৃষ্টি ও বন্যায় মৎস্যচাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘী ও জলাশয় এবং ৩২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার ১১১ হেক্টর জলাশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে। এরপর রয়েছে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া, যেখানে ৩ হাজারের বেশি পুকুর ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির কারণে জেলার সবকটি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মৎস্যখাতে ৯১ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০টি, কর্ণফুলীতে ৫৫৭টি এবং চন্দনাইশে ৩৮৩টি জলাশয় প্লাবিত হয়েছে। এসব জলাশয় থেকে প্রায় ৩ হাজার ১২৩ টন বড় মাছ, ৫৭০ টন চিংড়ি এবং প্রায় ৬০ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে।
উপজেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে বাঁশখালীতে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সাতকানিয়ায় ১১ কোটি টাকা, লোহাগাড়ায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা, কর্ণফুলীতে ৬ কোটি টাকা এবং চন্দনাইশে ৬ কোটি টাকা ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বন্যার কারণে মৎস্য অবকাঠামোতে ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি, মাছ ভেসে যাওয়ায় ৬৫ কোটি টাকা এবং মাছের পোনা নষ্ট হওয়ায় ২৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।



