প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে এবং এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার সর্বোচ্চ ৫৪.৭১ শতাংশ।
২০২৬ সালের ১২ জুলাই, রবিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত থেকে ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন, যা শতাংশের হিসাবে ৪৫.২৯%। অন্যদিকে ছাত্রী সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন, যা মোট বৃত্তির ৫৪.৭১%।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩২ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি বরাদ্দ ছিল। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে—যার মধ্যে দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একটি মেধার ভিত্তিতে বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশের মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ৬ লাখ ৪৫ thousand ৪১ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল, যার মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন। তবে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল, যা মোট নিবন্ধনের ৬৫.১১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন (৬২.০১%) এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪.১৬%) পরীক্ষায় অংশ নেয়। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮%) এবং ছাত্রী ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২%)।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের প্রাতিষ্ঠানিক বিভাজনে দেখা গেছে, ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি পাওয়া ৪৬ হাজার ২৮১ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে জানানো হয়, রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এরই মধ্যে ফল ওয়েবসাইটে আপলোড করা শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ফলাফল আপলোড সম্পন্ন হবে।



