আন্তর্জাতিক ফুটবলে দাপট দেখিয়ে নতুন সোনালি যুগের সূচনা করেছে স্পেন। পুরুষ, নারী, সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক—সব পর্যায়ে সাফল্য এনে গত পাঁচ বছরে মোট ১৬টি শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ ফুটবল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বিশ্বকাপ ট্রফিও ঘরে তুলে ২০০৮-২০১২ সালের স্বর্ণযুগের স্মৃতি ফিরিয়েছে ‘লা রোজা’।
স্পেনের এই সাফল্য শুধু পুরুষ ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েছে দেশটি।
গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে নারী ফুটবলে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে স্পেনের নারী দলগুলো জিতেছে ১১টি শিরোপা। এর মধ্যে রয়েছে নারী বিশ্বকাপ, দুটি নেশন্স লিগ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং টানা পাঁচটি অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ।
অন্যদিকে পুরুষ ফুটবলেও এসেছে বড় পাঁচটি শিরোপা। সিনিয়র দল জিতেছে বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশন্স লিগ। এছাড়া ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দল ফুটবলে স্বর্ণপদক এবং ২০২৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্পেন জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। শুরুতে তাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা না থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলকে নেশন্স লিগ, ইউরো ও বিশ্বকাপ জিতিয়ে সফল কোচদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি এবং বয়সভিত্তিক দল থেকে খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিকতাই স্পেনের বর্তমান সাফল্যের মূল কারণ।
বর্তমানে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্পেন। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর মধ্যে এটি নতুন রেকর্ড, যা তাদের চলমান আধিপত্যের আরেকটি প্রমাণ।



