কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তাদের নমুনা মিলিয়ে দেখতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পিবিআই ও আদালত সূত্র জানায়, তনুর জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পিবিআই। গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)। তবে তদন্তের স্বার্থে রাব্বীকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনার কারণ প্রকাশ করেনি পিবিআই।
আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের নমুনা মিলিয়ে দেখা গেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ ছাড়া গত ৮ জুন তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত। পিবিআই জানিয়েছে, তারা এখনো পলাতক।
তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত ও তুলনামূলক পরীক্ষা করা হবে। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন হত্যা মামলা দায়ের করেন।



