টানা বিক্ষোভ ও নিট-ইউজি পরীক্ষা বিতর্কের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সেই চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেন।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, নিট-ইউজি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্ক যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং কোনো অপশক্তি যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে—এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা চিঠিটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়মের নৈতিক দায় তিনি গ্রহণ করছেন এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি পরিস্থিতির প্রতি নজর রেখেছেন এবং সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন। তিনি জানান, নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও বলেন, দিল্লির যন্তর-মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং তারা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে পারে।
বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তাকে ব্যথিত করেছে। তবে এটি ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশের ঐক্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
চিঠির শেষাংশে তিনি তরুণদের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং নিজেদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।



