অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছেন। এবার ‘মাদক সন্ত্রাস’ দমনের নামে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (৫ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানায়, ৩ মার্চ থেকে ইকুয়েডরের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন সেনারা। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান একে মাদক-সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গোলার্ধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে নজরদারি ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারের মহড়ায় ইকুয়েডরের উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনী সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর আইনি সুযোগ পাচ্ছে। ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, নিহতদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ জেলে ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইকুয়েডরের অভিযান সেই আগ্রাসী নীতিরই ধারাবাহিকতা।
বর্তমানে কোকেন পাচারের একটি বড় ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত ইকুয়েডর। দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া মার্কিন অভিযানে সমর্থন দিলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর নতুন অধ্যায়।



