ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের আল-বারহ ফ্রন্টে গত তিন দিনের হামলা ও সংঘর্ষে অন্তত ২৭ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সরকারপন্থি বাহিনী। তাদের দাবি, এ ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরকারপন্থি বাহিনীর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, পশ্চিম তাইজের আল-বারহ ফ্রন্টে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের অভিযানে ২৭ জনের বেশি হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন। ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য তারেক সালেহ।
বাহিনীটির দাবি, সংঘর্ষে আরও ১৯ হুতি যোদ্ধা আহত হয়েছেন। এ সময় হুতিদের বেশ কয়েকটি সামরিক যান আগুনে পুড়ে যায় বা অচল হয়ে পড়ে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক যানের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
এদিকে শুক্রবার ইয়েমেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ইয়েমেন টিভি এক অজ্ঞাত সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, আল-বারহ ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালায় হুতিরা। তীব্র লড়াইয়ের পর হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিরা বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার পাশাপাশি কামান, মর্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। সরকারি বাহিনী তাদের গতিবিধি শনাক্ত করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হুতি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারপন্থি বাহিনীর ধারণা, পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টগুলোতে সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির জবাব দিতেই হুতিরা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
ওই সামরিক কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, হুতিরা মোজা জেলায় একটি মসজিদ ও একটি স্কুলে গোলাবর্ষণ করেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়। একই সময়ে তাইজের হাইফান ফ্রন্টেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের আরও দাবি, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হুতিরা ৩৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪২টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর ও বেসামরিক সেবার বিভিন্ন স্থাপনা ছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
তাদের ভাষ্য, লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এসব হামলা ঠিক কখন চালানো হয়েছিল, তা জানানো হয়নি। এ বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সরকারি সেবা টিভি জানায়, ১০ দিনে ৫৭ জন হুতি যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তারা কোথায় বা কী পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির বেশ কয়েকটি শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সংঘর্ষ তুলনামূলকভাবে কমে এলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মারিব, আল-জাওফ, আল-দালিয়া ও তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থন করে।



