বিশ্ব অর্থনীতিতে জাপানের ইয়েন দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত মুদ্রা হিসেবে পরিচিত। তবে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব দ্রুত বাড়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে-ইয়েনকে ছাড়িয়ে এশিয়ার সেরা মুদ্রা হবে কি চীনের ইউয়ান?
আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে দীর্ঘদিন ধরে জাপানি ইয়েন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাপানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, তুলনামূলক কম সুদের হার এবং মুদ্রাটির সহজলভ্যতার কারণে ঝুঁকির সময়ে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে ইয়েন ছিল অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুদ্রা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। এর ফলে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে চীনা ইউয়ানের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা করা দেশগুলোর মধ্যে ডলার বা ইয়েনের পরিবর্তে ইউয়ানে লেনদেনের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের এই বাড়তি ব্যবহার মুদ্রাটির বৈশ্বিক গুরুত্বও বাড়াচ্ছে।
তবে ইউয়ানের সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাপানি ইয়েনের তুলনায় চীনা ইউয়ানের লেনদেন ও মূলধন প্রবাহে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বেশি। ফলে ইউয়ানকে পুরোপুরি স্বাধীন ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিণত হতে এখনও কিছুটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
অন্যদিকে, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইউয়ানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে ইউয়ান ও ইয়েনের প্রতিযোগিতা এশিয়ার মুদ্রাবাজারে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তাই রাতারাতি ইউয়ান জাপানি ইয়েনকে সরিয়ে দেবে—এমনটা বলা কঠিন। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকলে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা হিসেবে ইউয়ানের ভূমিকা আরও বড় হতে পারে।



