দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের এই অঞ্চলে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অর্থায়নে আরও জোরালো প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ব্রিকসের সম্প্রসারণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ অঞ্চলে ব্রিকসের একমাত্র পূর্ণ সদস্য ভারত হওয়ায় জোটটির সম্প্রসারণে নয়াদিল্লির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রিকস বর্তমানে ১১ সদস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোট। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া জোটটিতে যোগ দেয়। সম্প্রসারণের ফলে ব্রিকসের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়লেও সদস্যদের স্বার্থের পার্থক্যও বেড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রিকস সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় পাকিস্তানের সদস্য হওয়ার চেষ্টা। পাকিস্তান ২০২৩ সালে ব্রিকসে যোগ দিতে আবেদন করলেও এখনো সদস্য হতে পারেনি। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে ঐকমত্য প্রয়োজন হওয়ায় ভারত-পাকিস্তান ভূরাজনীতিও এ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তবে ভারতের ভূমিকা শুধু বাধা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত ব্রিকসকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। বর্তমানে ভারতের সভাপতিত্বে ডিজিটাল অর্থ লেনদেন, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলোর জন্য একাধিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের বিস্তার এসব দেশের জন্য নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে জোটটিকে শুধু আলোচনার মঞ্চের বাইরে নিয়ে গিয়ে বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
ব্রিকসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। চীন জোটটির সম্প্রসারণে আগ্রহী হলেও ভারত ব্রিকসকে চীন-নির্ভর কোনো কাঠামোয় দেখতে চায় না। ফলে দুই দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতাও জোটটির ভবিষ্যৎ গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরে ঢাকা জানায়, ওই আমন্ত্রণের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে না।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ার হওয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতায় দেশটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদ বা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এখনো কোনো স্পষ্ট সুযোগ তৈরি হয়নি।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রিকসের সম্প্রসারণ অনেকটাই ভারতের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। ভারত যদি জোটটিকে আঞ্চলিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো লাভবান হতে পারে। অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রাধান্য পেলে ব্রিকসের ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।



