ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে (১৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই নারীকে সড়কে রেখে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন জসিম মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সোমবার রাত ১০টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বুধন্তি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক জসিম উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী ওই নারী নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা। প্রায় আট মাস আগে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী বিজয়নগর উপজেলার একটি বেকারিতে কাজ করেন।
স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সোমবার নোয়াখালী থেকে বাসযোগে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আসেন ওই নারী। পরে কুমিল্লা-সিলেটগামী একটি বাসে উঠে বিজয়নগরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। একই বাসে ছিলেন জসিম। আসন পাশাপাশি হওয়ায় বাসেই তাঁদের পরিচয় হয়।
একপর্যায়ে ওই নারী জসিমকে জানান, তিনি বিজয়নগরে যাবেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজয়নগরে না নেমে জসিম তাঁকে নিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরে নেমে যান।
পরে স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে কৌশলে বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ এলাকায় মনিহার সিনেমা হলের পূর্ব পাশে একটি কারখানায় নিয়ে যান জসিম। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওই নারীকে স্বামীর কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রওনা হন জসিম। বুধন্তি এলাকায় পৌঁছালে তিনি ওই নারীকে অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক নামানোর চেষ্টা করেন।
বিষয়টি দেখে অটোরিকশায় থাকা অন্য যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা জসিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন জসিমকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিজয়নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরে জসিমকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



