সারাদেশের ১০ হাজার হাফেজকে নিয়ে শুরু হয়েছে ‘হিফযুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর বৃহৎ হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতা। পবিত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং হাফেজে কুরআনদের সম্মাননা জানানোই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরার জামিয়াতুল মানহালে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
শিশু-কিশোর ও তরুণদের কুরআন হিফযে উৎসাহিত করা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নৈতিক ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেও এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিযোগীদের মেধা ও বয়সের ভিত্তিতে কয়েকটি বিভাগে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে ৫, ১০ ও ৩০ পারা হিফযের পাশাপাশি তিলাওয়াত ও তাজবিদ বিভাগ রয়েছে। প্রথমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিফযুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতী হুমায়ুন সাঈদ। তিনি জানান, এবার প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শুধু ঢাকাকেই আটটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বিকেএমইএ-এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন রিপন। তিনি জানান, পাঁচ বছর আগে কয়েকজন ব্যবসায়ী বন্ধুর উদ্যোগে এ কুরআনি প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ওলামায়ে কেরামের সহযোগিতায় আয়োজনটি বড় পরিসরে রূপ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিয়াঙ্কা ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ এবং হেজাজ সোয়েটার লিমিটেডের এমডি মো. আলমগীর হোসেন।
ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হাফেজ কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিযোগিতার মধ্যেই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তারা। দেশের আলেম, হাফেজসহ সর্বস্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা জামিয়াতুল মানহালের মহাপরিচালক মুফতি কাফায়েতুল্লাহ আযহারী।
আলোচনা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট, সম্মাননা ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী পর্বের জন্য নির্বাচিত প্রতিযোগীদের ‘ইয়েস কার্ড’ প্রদান করা হয়। পরে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।



