হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাফিউর রহমান। তিনি জানান, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিশিরী গ্রামের একটি পরিবারের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছায়েদ মিয়ার পরিবারের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তার মেয়ে জাসমিন ও ভাই ইউনুস ইজিবাইকে করে চুনারুঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তল্লাশির সময় তাদের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তাদের পুলিশের গাড়িতে করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বিরোধী পক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরী গ্রামের লোকজন চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের পর এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



