জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় মো. সিফাত হোসেন (২৬) নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরোকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মিরপুর মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান। তবে অভিযোগপত্রে দুই আসামি জিয়াউল হক জিয়া ও মেহেদী হাসানকে অব্যাহতি দেওয়ায় এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন নিহত সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার।
গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে দেওয়া নারাজি আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বিষয়বস্তু যথাযথভাবে আমলে নেননি এবং ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেননি। আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
পরে আদালত নারাজি আবেদনের শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার শেখ হাসিনাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি মিরপুর মডেল থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সালাউদ্দিন মাহমুদ (এস এম) জাহিদ, পুলিশের সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, জিয়াউল হক জিয়া ও মেহেদী হাসানসহ অন্যদের আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ এলাকায় এমএস পাওয়ারের সামনে হাজারো ছাত্র-জনতা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন সিফাত। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গুলি সিফাতের মাথার এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। এখন আদালতের নির্দেশে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করবে পিবিআই।



