পরীক্ষামূলক সংস্করণ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের ৩ জনের জামিন নাকচ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের তিন আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। দণ্ডিত পাঁচ আসামির মধ্যে জামিন চেয়েছেন মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রাব্বানী।

শুনানি শেষে আপিলকারীদের আইনজীবী এসএম শাহজাহান জানান, একই রায়ের ভিত্তিতে তিনটি পৃথক আপিল করা হয়েছে। প্রতিটি আপিলেই ওই তিন আসামির খালাস চাওয়া হয়েছে। তার দাবি, মামলার প্রসিকিউশনের একমাত্র সাক্ষী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নাবালক ছিলেন—এ বিষয়টিকে আপিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, শুনানিতে আসামিদের জামিন চাওয়া হলেও আদালত জামিন না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ময়মনসিংহের পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দণ্ডিতরা হলেন মো. হরমুজ আলী, মো. আব্দুস সাত্তার, খন্দকার গোলাম রাব্বানী, খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ ও মো. ফখরুজ্জামান।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, আটক, নির্যাতন ও লাশ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনায় যাবজ্জীবন ও অতিরিক্ত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলাটি শুরু হয় ২০১৫ সালের ১৯ মে। ময়মনসিংহের ত্রিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন মামলা করেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালের ১১ জুলাই তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও গুমের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

মামলার মোট আট আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচার চলাকালে তিনজন মারা যান। ফলে পাঁচজনকে নিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় এবং ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

প্রধান খবর

আসছে...