আবুধাবিতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছে আফগানিস্তান। শনিবার (১০ অক্টোবর) শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে দিন শেষে স্বাগতিকরা বাংলাদেশের চেয়ে ১৩৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে। রহমত শাহ ১৮৬ বলে ৮৪ রান এবং ইকরাম আলীখিল ৯১ বলে ২৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।
দিনের শুরুতে আগের দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শেষ দুই উইকেটে আরও ২৯ রান যোগ করে ৩৪৬ রানে অলআউট হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের হয়ে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাঈম হাসান। ৬৭ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক শুরু করে আফগানিস্তান। প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। অবশেষে ১১তম ওভারে সেদিকুল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। ৩১ বলে ১৭ রান করা আতাল তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
এরপর আবদুল মালিকের সঙ্গে জুটি গড়েন শহীদুল্লাহ কামাল। তবে দলীয় ৬৪ রানে শহীদুল্লাহকে ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। ৪৪ বলে ২০ রান করা এই ব্যাটার হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
দুই উইকেট হারানোর পর আবদুল মালিকের সঙ্গে যোগ দেন রহমত শাহ। ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে ফিফটি পূর্ণ করেন মালিক। দ্বিতীয় সেশনের বাকি সময় বাংলাদেশের বোলারদের আর কোনো সাফল্য পেতে দেননি দুই ব্যাটার। চা-বিরতিতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৩১ রান।
চা-বিরতির পরপরই জোড়া আঘাতে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বিরতির পর প্রথম ওভারেই মালিককে ফেরান এবাদত। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয় ১২০ বলে ৬২ রানের ইনিংস।
পরের ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি। রানের খাতা খোলার আগেই তাঁকে ফিরতে হয়। ফলে ১৩৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
এরপর দলের হাল ধরেন রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিল। বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে সতর্ক ব্যাটিং করে জুটি গড়েন তাঁরা। ১১২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রহমত। অর্ধশতকের পরও ধৈর্য ধরে ব্যাটিং চালিয়ে যান আফগান অধিনায়ক। ইকরামকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময় নির্বিঘ্নে পার করেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটে রহমত ও ইকরাম ১৯৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। ইকরাম ২৬ রান করতে খেলেছেন ৯১ বল। অন্যদিকে রহমত ১৮৬ বল মোকাবিলা করে ৮৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁদের জুটিতে আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। ১১ ওভারে ৫০ রান দিয়েছেন এই পেসার। হাসান মাহমুদ ১৬ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজের শিকারও একটি উইকেট। তবে ২১ ওভার বোলিং করেও উইকেট পাননি তাইজুল ইসলাম।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের বিপরীতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড এখনো ১৩৫ রান।



