যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ক্যাটাগরি-২ মাত্রার হ্যারিকেন হিসেবে আঘাত হেনেছে ইসাইয়াস। ঝড়টির প্রভাবে ফ্লোরিডা, আলাবামা ও জর্জিয়ায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তিন অঙ্গরাজ্যে ৯ লাখের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে স্থলে আঘাত হানে ইসাইয়াস। স্থলে প্রবেশের আগে ঝড়টি ক্যাটাগরি-৩ হ্যারিকেনে পরিণত হয়েছিল। তবে উপকূলে আঘাত হানার সময় এর শক্তি কমে ক্যাটাগরি-২-এ নেমে আসে। সে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার।
ঝড়টি স্থলে প্রবেশের পর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। শনিবার ভোরের দিকে এটি পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হয়। তবে শক্তি কমে গেলেও ঝড়টির কারণে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং কিছু এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে।
ইসাইয়াসের প্রভাবে ফ্লোরিডা ও আলাবামার পাশাপাশি জর্জিয়াতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। শনিবার বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় কয়েক লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা জানানো হয়। জর্জিয়াতেও কয়েক দশ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হন। ঝড়ের প্রভাবে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন সড়কে চলাচলে বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝড়কবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্লোরিডার কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে উদ্ধার ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে।
ইসাইয়াস চলতি ২০২৬ সালের আটলান্টিক হ্যারিকেন মৌসুমের প্রথম হ্যারিকেন। স্থলে আঘাত হানার পর এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আলাবামা পেরিয়ে টেনেসি উপত্যকার দিকে যায়। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর প্রভাব কাটতে সময় লাগতে পারে।



