পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা বেছে নেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছানোর যথেষ্ট উদ্যোগ জেলেনস্কি নেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্যও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প।

শনিবার (১০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে তিনি বলেন, ইউক্রেনের এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন। ট্রাম্পের দাবি, জেলেনস্কির সামনে একাধিকবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলেও তিনি তা কাজে লাগাননি। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক আলোচক ও ক্রেমলিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেবে।

রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ওয়াশিংটন-কিয়েভ বিরোধ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সমঝোতার পর এ মন্তব্য সামনে এল। তবে উদ্যোগটির বিরোধিতা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থের জোগান বাড়তে পারে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়। রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার উদ্যোগও এ সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

জেলেনস্কি এ উদ্যোগকে পুতিনের জন্য ‘উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, রাশিয়াকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে না। বরং এতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অর্থায়ন সহজ হতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক ভিত্তিতে উত্তেজনা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাঁর মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্যও জেলেনস্কির কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের সংকট বাড়াচ্ছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের ওপরও পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজেলের সরবরাহ সংকটের মধ্যে এসব স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শুধু ইউক্রেনের হামলাকেই দায়ী করা যায় না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বিশেষভাবে জেলেনস্কির কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন।

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থনে চাপ

এদিকে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের ১ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৭১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা, মস্কো থেকে জ্বালানি কেনার পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন, কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

বিশেষ করে জেলেনস্কির নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান এবং রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

প্রধান খবর

মাদরাসায় বলাৎকার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার

মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। সচেতনতা বাড়াতে ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে আবারও ভয়াবহ আগুন

গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদাগঞ্জে একটি পোশাক কারখানার কার্টনের গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা যায়নি।

আসছে...