ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে আবারও আটক হয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা। রোববার (১১ অক্টোবর) বিজয় চকের কাছে তাঁকে ও অন্য বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের গাদাগাদি করে আটকে রাখা এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। একই দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নেহা বোরা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখতে পুলিশ এমন কিছু বাস ব্যবহার করছে, যেগুলোর ভেতরে আলাদা কক্ষের মতো বিভাজন রয়েছে। এসব জায়গায় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া পুরুষ বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ ও লাথি মারার অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায়, ‘এটি সেই বাস। বাসটিতে চারটি “কক্ষ” রয়েছে। শ্বাস নেওয়ারও জায়গা নেই।’ আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত এসব বাসকে কারাগারের মতো করে তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নেহা আরও বলেন, ‘আটক রাখার বাসগুলোকে কি কারাগারে পরিণত করা হচ্ছে? কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। শুধু জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে চান বলে এত সহিংসতা কেন?’
টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজয় চকের কাছে নেহা বোরা ও অন্য বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভ থামাতে এগিয়ে আসার আগে আইসার সভাপতি অন্য সদস্যদের সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এলে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন দৌড়াতে শুরু করেন। পরে তাঁদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে রোববার দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা এ বিক্ষোভে অংশ নেন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), আইসা ও ক্রান্তিকারী যুব সংগঠন (কেওয়াইএস)সহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসও রয়েছেন।
এসএফআই অভিযোগ করেছে, খাঁচার মতো দেখতে পুলিশের ভ্যানের ভেতরে তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। সংগঠনটির আরও দাবি, পুলিশ সদস্যরা জন ব্রিটাসের ওপর হামলা চালান এবং পরে আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া দিল্লির স্যাক্রেড হার্ট চার্চের যাজক ফাদার বিজু জেভিয়ারকে পুলিশের কথিত সহিংসতার ভিডিও ধারণ করার সময় আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে এসএফআই।
এর আগে বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ জন্য ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে।



