রংপুরের মিঠাপুকুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মাহবুল আলমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বদরুদ্দোজা মাহমুদের অভিযোগ, এর আগেও একই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ মেরে ফেলা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহবুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১টা থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার মধ্যে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের বুজরুক মহদিপুর গ্রামে বদরুদ্দোজা মাহমুদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরের মাছ মারা যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বদরুদ্দোজা মাহমুদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। তিনি ওই গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরে ভেসে থাকা মরা মাছ ছোট নৌকায় উঠে জাল দিয়ে তুলছিলেন স্থানীয় জেলে রবিউল। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকেও পুকুরে নেমে মরা মাছ সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী বদরুদ্দোজা মাহমুদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাহবুল আলম বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মাহবুলের বাগানবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। বদরুদ্দোজার ভাষ্য, ওই সময় তিনি মাহবুলকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়েছিলেন। এরপর ওই হামলার জন্য তাকে দায়ী করে মাহবুল তার সঙ্গে বিরোধে জড়ান বলে দাবি করেন তিনি।
বদরুদ্দোজার দাবি, গত বছরও মাহবুলের লোকজন তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ মেরে ফেলেছিল। এ ছাড়া গত ২৬ জুন তার লাগানো গাছ কেটে ফেলার জন্য প্রতিবেশী নাফিউল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাফিউল বিষয়টি তাকে জানানোর পর গাছ কাটার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় বলে দাবি বদরুদ্দোজার। এ-সংক্রান্ত কল রেকর্ড নিজের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশী নাফিউল ইসলামও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে মাহবুল আলম তাকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বদরুদ্দোজার লাগানো গাছ কেটে ফেলতে বলেছিলেন। এ জন্য তাকে অগ্রিম এক হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন নাফিউল। তবে তিনি বিষয়টি বদরুদ্দোজাকে জানিয়ে দেন। নাফিউলের ধারণা, গাছ কাটার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা বানেছা বেগম জানান, রোববার সকালে পুকুরে গিয়ে তারা মাছগুলোকে ছটফট করতে দেখেন। তার অভিযোগ, এর আগেও ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহবুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয় এবং খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান রোববার বিকেলে জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



