জামালপুরের বকশীগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সড়কসংলগ্ন ঝোপে ছিটকে পড়ার তিন দিন পর গৃহবধূ রোজিনা আক্তারের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক মো. সোহানকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানাননি ওই তরুণ।
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দত্তেরচর গ্রামে। নিহত রোজিনা আক্তার ওই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর মেয়ে। তাঁর স্বামী ইয়াকুব আলী পেশায় কৃষক। গ্রেপ্তার মো. সোহান উপজেলার বাট্টাজোড় এলাকার নূর আলমের ছেলে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দুপুরের পর থেকে রোজিনার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। এর মধ্যে সোমবার সকালে বাড়ির পাশের সড়কসংলগ্ন ঝোপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনেরা এসে মরদেহটি রোজিনা আক্তারের বলে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
প্রথম দিকে পারিবারিক কলহের জেরে রোজিনাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ দেখা দেয়। এ কারণে তাঁর শাশুড়িসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানায় নেওয়া হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক কলহের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশে আবার অনুসন্ধান চালায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে জানা যায়, রোজিনার মরদেহ উদ্ধারের স্থানটিতে তিন দিন আগে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোটরসাইকেলচালক সোহানকে শনাক্ত করে। সোমবার বিকেলে তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে সোহান দাবি করেন, একটি ছাগলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগেছিল এবং এতে তিনি আহত হন। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের দেওয়া তথ্যের অমিল থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি পুরো ঘটনা জানান।
ওসি আরও বলেন, পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রোজিনা ঝোপের মধ্যে ছিটকে পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার বিষয়টি সোহান কাউকে জানাননি।
এ ঘটনায় নিহত রোজিনার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় সোহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।



