বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা একটি সুপারট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে পৃথক চারটি ঘটনায় জাহাজে হামলার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর দাবি, সোমবার (১২ অক্টোবর) লক্ষ্যবস্তু হওয়া সুপারট্যাংকারটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। এ সময় জাহাজটি আইআরজিসির নৌবাহিনীর দেওয়া সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করে। তবে জাহাজটির নাম, মালিকানা, পতাকাবাহী দেশ এবং হতাহতের বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আইআরজিসির সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটির নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি সুপারট্যাংকারে আঘাত হানা হয়েছে এবং সেটিতে আগুন ধরে গেছে। তবে হামলার পর জাহাজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলি ওজমায়ি সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় নিজেদের শনাক্তকরণ এড়াতে যেসব জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এসব জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে সোমবার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে পৃথক চারটি ঘটনায় জাহাজে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা কিংবা সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনে এই পথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিয়মিত পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবিও করছে মার্কিন বাহিনী।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলো প্রায়ই হামলার শিকার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সর্বশেষ সুপারট্যাংকারে হামলার দাবি এবং পৃথক চারটি ঘটনায় জাহাজে আঘাত হানার খবর গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।



