***বারবার হামলার পরও নিরাপত্তা মিলল না কেন? ****আগের অভিযোগের তদন্ত ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আগের হামলাগুলোর তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় এক বছর আগে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছিল পরিবার। হত্যার মাত্র পাঁচ দিন আগেও তিনি হামলা বা ধাওয়ার শিকার হয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুরের উতরাইল বাজারে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত আলিফকে গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলিফ চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজে অপরাধ, দুর্নীতি ও মাদক চোরাচালান নিয়ে লেখালেখি করতেন।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় চার দুর্বৃত্ত তাঁকে কুপিয়ে জখম করে বলে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। বাধা দিতে গেলে সঙ্গে থাকা সাংবাদিক শাহজাহান শেখকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। তখন আলিফের পরিবার সংবাদ প্রকাশের জেরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলে।
সর্বশেষ ১০ অক্টোবর একই এলাকায় আলিফের ওপর হামলা বা তাঁকে ধাওয়া করার খবর প্রকাশিত হয়। তবে আগের ঘটনাগুলোতে মামলা হয়েছিল কি না, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিংবা হত্যার আগে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা জানিয়েছেন। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আগের হামলাগুলোর তদন্ত ও পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী সাংবাদিক ইউনিয়ন।
প্রায় এক বছরের ব্যবধানে একাধিক হামলার শিকার হওয়ার পর গুলিতে প্রাণ হারালেন দুই শিশুসন্তানের বাবা আলিফ। তাঁর সাংবাদিকতার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রশ্ন উঠেছে—আগের হত্যাচেষ্টার অভিযোগের পর পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? বারবার হামলার শিকার হওয়ার পরও কেন প্রাণ হারাতে হলো এই সাংবাদিককে?



