ভারতের মণিপুরে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন বেসামরিক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সড়ক ছিল জনশূন্য। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ১৮ অক্টোবর ইম্ফল পূর্ব জেলার উয়ুমপোক ও নংশুম এলাকার কাছে খোংবাল তাংখুল পাহাড়ের পাদদেশে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কয়েকজন বেসামরিক মানুষ। এতে তিনজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হামলার স্থান, আহতের সংখ্যা ও নিহতদের বয়সের তথ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নংশুমের লায়রেনপাকপাম ইনায়োবি মেইতেই (৪০), আরিবাম ননি মেইতেই (৩৫) এবং উয়ুমপোক মামাং লেইকাইয়ের কে শুশিল সিং (৩০)। হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে অভিযোগ উঠলেও দায়ীদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার রাতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে কনচিপুর, খুরাই ও পাতসোইসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মঘটের সমর্থকেরা রাস্তায় নামেন। লামলং, সিংজামেই, কোয়াকেইথেল ও চিংমেইরং এলাকাতেও রাতের বেলা বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুই নারীর মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের বাসভবনের ফটকে অবস্থান নেন। হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সোমবার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে নেটিভ পিপলস কমিটি মণিপুর (এনপিসিএম)। সংগঠনটি হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি খোংবাল তাংখুল পাহাড়ের পাদদেশ ও খামেনলক এলাকার আশপাশে অননুমোদিত সশস্ত্র শিবির সরিয়ে নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) বা অভিযান স্থগিত রাখার চুক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। নিরাপত্তা অভিযানে কথিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনের পদত্যাগও দাবি করেছে তারা। এসব অভিযোগ ও দাবি সংগঠনটির বক্তব্য; এগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি পরিষেবাকে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচল, জরুরি চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
মণিপুরে চলমান জাতিগত উত্তেজনার মধ্যে নতুন এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।



