রাজধানীর গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৩৫৯ লিটার বিদেশি মদ ও দেশি-বিদেশি বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত দল। জব্দ করা এসব পণ্যের শুল্কসহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিবি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানের ৪৫ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান শুরু হয়। রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চলে।
এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দলটিতে ছিল সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)। অভিযানে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেয় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)।
সংবাদ সম্মেলনে রেজভী আহমেদ বলেন, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য, বিশেষ করে মদ ও মদজাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার মজুত ছিল। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউস ও ডিসপেনসারিতেও মদ ও মদজাতীয় পানীয় পাওয়া যায়।
তিনি জানান, অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৬ লিটার মদ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা পণ্যের পরিমাণ ২ হাজার ৩৫৯ লিটার। এর মধ্যে মদের শুল্কসহ মূল্য ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং বিয়ারের শুল্কসহ মূল্য ৫০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। দুই ধরনের পণ্যের মোট শুল্কসহ মূল্য ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
রেজভী আহমেদ আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নয়। অভিযানের সময় দেশীয় মদ ও বিয়ার কেনার পক্ষে কিছু চালান দেখানো হলেও স্থানীয় বাজার থেকে কেনা পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো চালান উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিদেশি মদ ও বিয়ার কেনার পক্ষেও প্রয়োজনীয় দলিলাদি দেখাতে পারেনি।
জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য নিরূপণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।



