মাগুরার শালিখা উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদ রানা (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ভাই ও ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের নাঘোসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুদ রানা নাঘোসা গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে এ বিরোধের জেরে মাসুদ রানার সঙ্গে তাঁর বড় ভাই সিদ্দিকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিদ্দিকের শ্বশুরবাড়ি একই গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের খবর পেয়ে সিদ্দিকের শ্বশুর নূর আলী (৬০) ও চাচা শ্বশুর আখের আলী (৫৫) ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে মাসুদ রানার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিরোধের একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সিদ্দিকের স্ত্রী কাকলি (৩৫), মাসুদ রানার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সেতু (২৫), নূর আলী ও আখের আলী বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মাসুদ রানা।
এ সময় মাসুদ রানার স্ত্রী ও আশপাশের লোকজন তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁরাও আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে নাঘোসা বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
মাসুদ রানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করেন। এ সময় দুই নারীকে একটি ঘরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে শালিখা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই নারীকে হেফাজতে নেয়।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, নাঘোসা গ্রামে এক ভাইয়ের হাতে অপর ভাই নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



