সাভারের আশুলিয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেনের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে তাকে স্যান্ডো গেঞ্জি পরে একটি টেবিলের সামনে নাচতে দেখা যায়। টেবিলের ওপর একটি বোতলও রয়েছে। তবে ভিডিওটি মদের আসরের নয় বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষক। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে হলুদ দেয়ালঘেরা একটি কক্ষে স্যান্ডো গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে নাচতে দেখা যায়। তার সামনের টেবিলে একটি বোতল রাখা রয়েছে। একই কক্ষে লুঙ্গি ও ফতুয়া পরা আরেকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকেও নাচতে দেখা যায়। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া মোল্লা মার্কেট এলাকার সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও অভিভাবক সমালোচনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল সরকার বলেন, ‘যে শিক্ষকের কাছে এলাকার শিশুরা নীতিশিক্ষা নেবে, তিনি যদি মদের বোতল সামনে রেখে এভাবে নাচেন, তাহলে কোমলমতি শিশুরা সমাজ থেকে কী শিখবে? এতে পুরো শিক্ষকসমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
স্থানীয় আরেক অভিভাবক সুজন আহমেদ লিপু বলেন, ‘ভিডিওটি দেখার পর ভেবেছি, একজন প্রধান শিক্ষক কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে পারেন। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর উপযুক্ত তদন্ত ও শাস্তি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। তার ভাষ্য, সেটি মদের আসরের ভিডিও নয়। ঘরের ভেতরে তিনি ও তার এক বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়, যাকে তিনি ‘দাদা’ বলে ডাকেন, মজা করে নাচছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, কে বা কারা সামনে একটি মদের বোতল রেখে ভিডিওটি ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এখনও ভিডিওটি দেখেননি। তবে বিদ্যালয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।



