অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
সিলেটে পেট্রোল পাম্পে অযৌক্তিক জরিমানা ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ তুলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন পাম্প মালিকরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের অতিরিক্ত নজরদারি ও বিভিন্ন সংস্থার ঘনঘন তদারকির কারণে পাম্প পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সিলেট বিভাগের সব ধরনের পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতারা এ ঘোষণা দেন। কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ যৌথভাবে এই ধর্মঘটের ডাক দেন। তারা জানান, পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বারবার হিসাব যাচাই, পুলিশ মোতায়েন এবং একাধিক পাম্পে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায়—এসব কারণে মালিকরা চরম চাপের মুখে পড়েছেন।
পাম্প মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি ও এলপিজিসহ কোনো ধরনের জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং তা এক ধরনের হয়রানির শামিল।
তারা আরও বলেন, সরকার চাইলে নিজেরাই পাম্প পরিচালনা করতে পারে—এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সন্ধ্যার পর কয়েকজন পাম্প মালিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পরবর্তীতে রাতেই জরুরি বৈঠক করে পাম্প মালিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের এই ঘোষণায় সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



