অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারসংলগ্ন সেন্টার খালের পাড়ে পড়ে আছে ২০২২ সালে চালু করা একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স, যা ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামে চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য কেনা হয়েছিল। প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা এই অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধনের পর চার বছরেও একবারও রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়নি। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং এর ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হলেও শুরু থেকেই চালক নিয়োগ না থাকায় এটি কার্যকর করা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, পরিকল্পনা ও তদারকির ঘাটতির কারণে প্রকল্পটি শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়েছে। চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জু জানান, প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি, ফলে চরাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, নৌ অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল চর আবদুল্যাহে শিশু মো. মামুন তীব্র পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। চার ঘণ্টা চেষ্টা করেও হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ পরিবহন পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত একটি ছোট নৌকা দিয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে ঝুঁকি তৈরি হয় এসব এলাকায়।
শিশুটির প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম বলেন, নৌকা বা অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শিশুটির বাবা জাকির হোসেন জানান, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কখনোই জনগণের কাজে আসেনি।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রামগতির চর আবদুল্যাহ, চরগজারিয়াসহ আশপাশের চরে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে, যাদের যোগাযোগ পুরোপুরি নদীনির্ভর। বর্ষাকালে যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে যায় এবং জরুরি প্রয়োজনে ট্রলার ভাড়া করতে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কার্যকরভাবে ব্যবহার না হলেও এটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, পরে সমালোচনার কারণে সেটি সরিয়ে খালের পাড়ে ফেলে রাখা হয়। এতে এটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং কেন এটি দীর্ঘদিন অকার্যকর ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সুবিধার জন্য নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।



