ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দেওয়া ‘১০০ দিনে ৬০৫ খুন’ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের জবাবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই তথ্যে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এই সংখ্যাটি দেশের স্বাভাবিক খুনের প্রবণতার ঐতিহাসিক হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর টিআইবির রিপোর্টের ৫টি পদ্ধতিগত সমস্যা তুলে ধরে এই দাবি করে। এর আগে রবিবার (৭ জুন) ‘নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি দাবি করেছিল যে, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২০৯টি ধর্ষণ, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সে সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল।
পুলিশ সদর দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে, মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসে পুলিশের দাপ্তরিক হিসাবে মোট ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টি পূর্ব শত্রুতা, ১৪৬টি পারিবারিক কলহ, ৬৯টি সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধ, ১৯টি আকস্মিক আঘাত, ৯টি আধিপত্য বিস্তার, ৫টি প্রেম ও পরকীয়া, ৬টি ছিনতাই, ৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং ১৫টি দাঙ্গা-দস্যুতা-অপহরণসহ অন্যান্য কারণে ঘটেছে। পুলিশ জানায়, গত এক দশকে দেশে বার্ষিক খুনের মামলার সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। সেই হিসাবে দুই মাসে ৬০৫টি খুনের ঘটনাকে আনুপাতিক হারে বছরে রূপান্তর করলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টি, যা বিগত এক দশকের গড় খুনের সংখ্যার ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে। সুতরাং, এটিকে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বলার কোনো তথ্যভিত্তিক কারণ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনসংখ্যার অনুপাতে গত দুই মাসে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় হত্যার হার মাত্র ০.৩৪—যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে কোনোভাবেই উচ্চ হার নয়। এ ছাড়া, মোট হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড মাত্র ৩টি, যা মোট সংখ্যার মাত্র ০.৫ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তর অভিযোগ করে, টিআইবির প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর একই সময়ের হত্যাকাণ্ডের কোনো তুলনামূলক তথ্য বা ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়নি, যা পদ্ধতিগতভাবে অসম্পূর্ণ। পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ এখন প্রতিটি মামলা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত করছে, যা প্রকৃতপক্ষে পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নির্দেশক, কোনো দুর্বলতা নয়।



