জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, গুলশানে মিছিল করে আওয়ামী লীগের কোনো লাভ নেই এবং দলটির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের আগে বাংলাদেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক সুযোগ নেই।
রোববার এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ-নীতি থেকে সরে না গিয়ে নিজের মা-বাবার দেখানো পথে ফিরে আসা উচিত। তার ভাষ্য, এই পথই ভালো।
আওয়ামী লীগের পুনর্মিলন, পুনর্বাসন বা সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই বিচারের আগে তাদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া যাবে না। আদালত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অপরাধী সাব্যস্ত করলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তি হবে। এরপর আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাদের বাংলাদেশে থাকা বা রাজনীতি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিচারালয়কে দুর্নীতিগ্রস্ত জায়গায় পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বিচারব্যবস্থার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে ফিরে এসে কোনো লাভ হবে না। শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়া এবং দলীয় পরিবারকে একত্র করার প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক দল নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য ভারতের একটি এক্সটেনশন হিসেবে উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের গুলশানে মিছিল করে কোনো ভবিষ্যৎ তৈরি হবে না।
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, যারা সেখানে আওয়ামী লীগ হয়ে নেমেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ রাস্তায় নামলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা সহযোগিতা হলে তা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার বিচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।
সরকারের চাঁদাবাজি নিয়েও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সরকার চাঁদাবাজি কমানোর কথা বললেও বর্তমানে সরকার আরও বেশি চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। তার দাবি, এখন সরকার ‘লেজিটিমেট চাঁদাবাজি’ করছে।
তিনি বলেন, লং মার্চে জনগণের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দখলদারির বিরুদ্ধে আরও একটি দাবি যুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন। জনগণের সেই দাবির ভিত্তিতে এনসিপি তাদের কর্মসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।



